মিরপুরে ক্যারিবীয়দের কাছে পরাজয়কে ‘বাজে দিন’ হিসেবে দেখছেন শান্ত
মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতাশাজনক হারের মুখে পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলতে স্পিন-সহায়ক উইকেট প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারেনি টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ওপেনার সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি বাদে ব্যাটিং লাইনআপে আর কেউ বড় অবদান রাখতে পারেননি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধস নামে, মাত্র ৩৫ রান তুলতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল।
পরে নাঈম হাসানের অর্ধশতকের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। তবে এই লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে নেমে বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজরা। ফলস্বরূপ, সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও চরম হতাশা উপহার দেয় স্বাগতিকরা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কয়েকটি ক্যাচ হাতছাড়া করার বড় মূল্য দিতে হয়েছে দলকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পুরো বিষয়টিকে আপাতত ক্রিকেটের একটি খারাপ দিন হিসেবেই দেখতে চান তিনি। ৮ উইকেটে হারের পর শান্ত বলেন, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক একটি পারফরম্যান্স। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই দল নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি, যা দলের জন্য চিন্তার বিষয়।
অধিনায়ক আরও বলেন, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, প্রস্তুতি এবং ক্রিকেটারদের মানসিকতা কিংবা জয়ের তীব্র ইচ্ছা—সবকিছুই ইতিবাচক ছিল। প্রত্যেকেই মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চেয়েছে। তার মতে, এটি স্রেফ একটি বাজে দিন। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে না পারা হারের অন্যতম কারণ। তবে ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি মাঝেমধ্যেই তৈরি হয়।
বাংলাদেশ সাধারণত স্পিন সহায়ক উইকেটে ভালো খেলে থাকে—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বিপরীত চিত্রই দেখা যাচ্ছে। মানসম্পন্ন স্পিনারদের বিপক্ষে প্রায়ই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হচ্ছে টাইগারদের। মিরপুর টেস্টেও রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। দুই ক্যারিবীয় স্পিনার মিলে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামান এবং বেশ কয়েকজন ব্যাটার সফট ডিসমিসালের শিকার হন।
ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা অকপটে স্বীকার করে শান্ত বলেন, দল ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি এবং ইনিংসের শুরুটাও অত্যন্ত খারাপ হয়েছিল। অনেক ব্যাটার সহজ শটে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের কন্ডিশনে কীভাবে আরও দক্ষতার সঙ্গে টিকে থাকা যায়, সে বিষয়েও ভাবতে হবে।
ম্যাচে আম্পায়ার্স কলের সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকলে এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলোর নেতিবাচক প্রভাব সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ফিল্ডিংয়ে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। ফিল্ডিংয়ে অবিশ্বাস্য ক্যাচ লুফে নেওয়ার মতো মুহূর্ত তৈরি করতে হতো। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি দল। সবশেষে শান্ত মন্তব্য করেন, ক্রিকেটে এ ধরনের হার মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











