৩৬ দল নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নারী ফুটবল প্রতিভাদের সামনে নিয়ে আসতে এবং তাদের প্রতিযোগিতামূলক খেলার সুযোগ তৈরি করতে শুরু হলো ‘প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ওয়ান স্টার নিবন্ধিত ৩৬টি নারী ফুটবল একাডেমিকে নিয়ে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
আঞ্চলিক পর্ব ও প্রতিযোগিতার কাঠামো
দেশের ছয়টি অঞ্চল—ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহী থেকে একাডেমিগুলো এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে ঢাকার ৮টি, খুলনার ৭টি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ৬টি করে এবং রংপুর ও রাজশাহীর যথাক্রমে ৫ ও ৪টি একাডেমি মাঠে নামবে। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৩৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আঞ্চলিক পর্বে অনুষ্ঠিত হবে ২৮টি ম্যাচ। সেখান থেকে শীর্ষ আটটি দল উঠে যাবে চূড়ান্ত পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ চূড়ান্ত পর্বের ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রংপুর অঞ্চলের খেলা দিয়ে টুর্নামেন্টের আঞ্চলিক পর্ব মাঠে গড়াচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ৪ ও ৫ অক্টোবর খুলনা, ৮ ও ৯ অক্টোবর সিলেট, ১২ ও ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ২৫ ও ২৬ অক্টোবর ঢাকা অঞ্চলের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত আসর বসবে।
নিয়মাবলি ও আর্থিক পুরস্কার
টুর্নামেন্টের সবকটি ম্যাচ নকআউট পদ্ধতিতে ৭০ মিনিট (প্রতি অর্ধে ৩৫ মিনিট) সময়সীমায় অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। টুর্নামেন্টে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তবে প্রতিটি একাডেমি সর্বোচ্চ ২৩ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে এবং ম্যাচের মূল স্কোয়াডে রাখা যাবে ২০ জন খেলোয়াড়।
প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি পাবে ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি এবং রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে ম্যাচসেরাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কামরুন নাহার ডানা ২০০৪ সালে মাত্র ছয়টি দল নিয়ে নারী ফুটবলের প্রাথমিক পথচলার কথা স্মরণ করে দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, এই প্রতিযোগিতা কেবল খেলোয়াড় নয়, বরং নতুন নারী রেফারি, কোচ ও সংগঠক তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জাতীয় দলের খেলোয়াড় আলপি আক্তার ও মেঘলা রানী রায় টুর্নামেন্টটির আয়োজনকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উঠে আসার বিশেষ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











