বিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ও অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা রিজভীর

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৫৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ও অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা রিজভীর
ছবি সংগৃহীত

বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা কিছু রাজনৈতিক দল আত্মঘাতী ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গণপরিবহন ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলার মতো ঘটনাগুলো পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের পরিকল্পিত কাজ।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এ সভার আয়োজন করে।

সহিংসতা ও দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সাম্প্রতিক ভাঙচুর প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একটি গোপন সংগঠনের ছাত্রসংগঠন সেখানে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দলটি একদিকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে, অন্যদিকে কর্মীদের উসকে দিয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার সংগ্রামসহ দেশের কোনো ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় তাদের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল না।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জ্বালানি অপচয়

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার পরিচালনার সঠিক উদ্যোগগুলোকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। ব্যাংক খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের তথ্য নাকচ করে তিনি দাবি করেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে এবং বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

​জ্বালানি সংকটের সময়ে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, রংপুরের কর্মসূচিতে সাড়ে চার শতাধিক গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় করা হয়েছে, যা যমুনা সেতুর টোলের হিসাব থেকে স্পষ্ট। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির এই সময়ে এ ধরনের অপচয় কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।

রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক চর্চা

রিজভী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা সুস্থ রাজনীতির পরিচয় নয়। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে সরকারের সমালোচনার পূর্ণ অধিকার থাকলেও অসভ্যতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বেরিয়ে আসাই ছিল ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য।

​জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বায়ক ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাসহ সমমনা জোটের শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জোটের সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাত।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0