ইউরোপে মারাত্মক জেট ফুয়েল সংকট: জোগান দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০০:৪১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইউরোপে মারাত্মক জেট ফুয়েল সংকট: জোগান দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি সংগৃহীত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে তীব্র বিমান জ্বালানি বা জেট ফুয়েল সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপ। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছরের শেষ তিন মাসে ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানিটির বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

দূরপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সংগ্রহ

ইউরোপের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে দূরের দেশগুলো থেকে রেকর্ড পরিমাণে জেট ফুয়েল আমদানি করা হচ্ছে। এই সংকটকালে ইউরোপের অন্যতম প্রধান বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইউরোপে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল পাঠানো হচ্ছে, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এর আগে নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও আমদানির হার বাড়ানো হয়েছিল।

সংঘাত ও জোগানের আঞ্চলিক বৈষম্য

দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলায় সেখান থেকে ইউরোপে বিমান জ্বালানির আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর তথ্যমতে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ইউরোপীয় বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দিনে ১৮ হাজার ব্যারেল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৪ লাখ ১৯ হাজার ব্যারেল উদ্বৃত্ত জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

কমেছে ইউরোপের সংরক্ষিত মজুত

ইউরোপে জেট ফুয়েলের সংরক্ষিত মজুতও তলানিতে ঠেকেছে। আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প (এআরএ) অঞ্চলের তেল সংরক্ষণ ও শোধনাগারগুলোতে গত ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে মজুতের পরিমাণ বিগত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। স্থানীয় বাজারে ঘাটতি ও উচ্চ দামের কারণে এশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানো ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠেছে।

উৎপাদন বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া

চাহিদা সামলাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় জেট ফুয়েল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুলাইয়ে দেশটির বিমান জ্বালানি উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ৩৮৯ লাখ ব্যারেলে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওই মাসে কোরিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে দিনে গড়ে ২৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়, যা জুন মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

​বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই বর্ধিত উৎপাদন ইউরোপের জ্বালানি চাপ কিছুটা প্রশমিত করতে ভূমিকা রাখবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ইউরোপের বিমান চলাচল ও জ্বালানি খাতে নতুন করে তীব্র চাপ তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0