টোকিওতে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত: বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজার পরিবার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০০:১৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
টোকিওতে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত: বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজার পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের রাজধানী টোকিও ও এর আশপাশের এলাকায় প্রবল শক্তিতে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দুজুয়ান’। সোমবার আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১৯ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের তাণ্ডবে ইতিমধ্যে পুরো অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

​স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে পাহাড় ধসে একটি বসতবাড়ি ধ্বংস হলে সেখানে এক নারী জীবন্ত চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে চিবা অঞ্চলে ঝড়ের তাণ্ডবে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন এক ব্যক্তি, যাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টাইফুনের জেরে গণপরিবহন খাত মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; বাতিল করতে হয়েছে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট এবং একাধিক রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় টাইফুন দুজুয়ানের বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা ক্ষণে ক্ষণে ঝোড়ো হাওয়া আকারে সর্বোচ্চ ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ধারাবাহিক ঝড়গুলোর মধ্যে দুজুয়ানই সাম্প্রতিকতম। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুর্যোগগুলো অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

​পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক রূপ দেখে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা একে সর্বসাধারণের জীবনের জন্য ‘আশু হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের তাগিদ দিয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিস্থিতি সার্বিক নজরদারির স্বার্থে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন।

​এদিকে, চরম ভারী বৃষ্টির কারণে টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ভূগর্ভস্থ ঘর বা বেসমেন্টে অবস্থান না করার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কার্টুনচিত্রের মাধ্যমে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, অতিবৃষ্টিতে ভূগর্ভস্থ অংশে দ্রুত পানি প্রবেশ করে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর পাশাপাশি বানের পানিতে ম্যানহোলের ঢাকনা সরে গিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে তিন নম্বর স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0