নিউইয়র্কে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: প্রধান এজেন্ডা জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ও ডিজেল সংকট

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৬:৩৩
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নিউইয়র্কে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: প্রধান এজেন্ডা জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ও ডিজেল সংকট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন বিশ্বনেতারা। এই অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিশ্ববাজারে ডিজেলের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং রাশিয়ার জ্বালানি খাতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলা জোরালো করার প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে মূলত ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল ও ডিজেল অবকাঠামোয় আঘাত করা থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও ডিজেল সংকট

সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষভাগে মস্কো অঞ্চলে পরিচালিত এক বড় ধরনের হামলায় দেশটির অন্যতম প্রধান একটি তেল শোধনাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনজনের মৃত্যু হয়।

​যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার তার নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক বার্তায় উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট পুরো বিশ্বকে ভোগাচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া তাদের ডিজেল শিল্প ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দেশটির একাধিক শোধনাগার ধ্বংস হয়ে সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে 'অসীম ও অযৌক্তিক' হিসেবে বর্ণনা করে জানান, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যাদের বড় অংশই সৈন্য।

​যদিও রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন নগরে রাতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত করছে, তবুও ট্রাম্প জ্বালানি সংঘাত বৃদ্ধির জন্য কিয়েভের আক্রমণকেই দায়ী করছেন।

উত্তেজনা প্রশমনের শর্ত ও দ্বিপক্ষীয় অবস্থান

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার জানান, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উত্তেজনা কমানোর নানা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি খাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও অনুরূপ পদক্ষেপ নিয়ে পাল্টা আঘাত থেকে বিরত থাকবে।

​মঙ্গলবারের বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর আগে আয়ারল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্প সরাসরি জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনায় আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, ইউক্রেন অন্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে, তবে ডিজেল স্থাপনায় আঘাত করা উচিত নয়। গত রোববারের ফোনালাপেও দুই নেতার মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল 'ডিজেল', যা ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির রেকর্ড দাম ও রাজনৈতিক সমীকরণ

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সোমবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে রেকর্ড প্রতি গ্যালন ৬.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩.১৯ ডলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ সামরিক অভিযানের পর তেহরান আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে যাতায়াত সীমিত করায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

​মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল এবং ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজসহ জ্বালানি উৎপাদনকারী পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরবেন। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ট্রাম্প উভয় পক্ষ জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি এবং হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0