বাংলাদেশে বিভেদ বা বিভাজনের চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
বাংলাদেশে ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম কিংবা পাহাড়ি-সমতল ভেদে কোনো ধরনের বিভেদ ও বিভাজন তৈরি করার চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ—যেভাবেই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের ঐক্য বিনষ্টের কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রকে গ্রাস করার চেষ্টা চালানো মানেই সৃষ্টিকর্তা, মানবতা ও ধর্মের মূল চেতনার বিরোধিতা করা। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে দর্শন ও আদর্শ কখনো কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিষয় নয়; ধর্ম ঘোরে সৃষ্টিকর্তাকে কেন্দ্র করে, আর রাজনীতি চালিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষায়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিলল ৫টি চিরকুট
- বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ,আহত একাধিক
- গণমাধ্যম সমাজের আয়না, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের বাধ্যবাধকতা: তথ্যমন্ত্রী
- পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অস্থায়ী দায়িত্বে স্পিকার
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্বপ্রাপ্ত নয় এবং কোনো দল বা নেতা দেব-দেবী নন। নেতৃত্ব বা তাদের কর্মসূচী ততক্ষণই টিকে থাকবে, যতক্ষণ জনগণ তাকে কল্যাণকর মনে করবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করাই আসল মননশীলতা। কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতার সুযোগ নিতে চাইলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থেকে তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবার সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
বরিশাল জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।
সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে প্রধান অতিথি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া আলোচনা সভার প্রারম্ভে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











