আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: সালাহউদ্দিন আহমদ
রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত শাসনমালে গুম হওয়া মানুষদের প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। স্বজনদের যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করার পাশাপাশি বহু মরদেহ গায়েব করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় ঘটেছে এবং তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে দিল্লিতে।
নিজের ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কিংবা সুমনের মায়ের মানসিক অবস্থা অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারবে না। নিজের পরিবারের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কী অবর্ণনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা কেবল তারাই জানেন।
বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭০৯ জন গুম হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে মাত্র ১৫৫ জন ফিরে আসতে পেরেছেন। এছাড়া পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গুম সংক্রান্ত বিষয়ে ১,৮৫০টি আবেদন জমা পড়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে এ ধরনের গুম-খুন সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার আজমীর মতো অনেকে ফিরে এলেও পরিবারের সদস্যদের আর কাছে পাননি।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বহু লাশ পুড়িয়ে ফেলা এবং গায়েব করার কারণেই পরিসংখ্যানের মধ্যে এই ফারাক তৈরি হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











