নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১০ জন খালাস

২৪ আগস্ট ২০২৬ - ১৪:৩১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১০ জন খালাস
ছবি সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই রায়ে চার আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত এ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্তদের তালিকা

হাইকোর্টের রায়ে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন— নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াৎ হোসেন।

​অন্যদিকে আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন— সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন এবং মহিউদ্দিন শাকিল।

​মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

​ঘটনা ও নিম্ন আদালতের রায়

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।

​মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনার পর নুসরাতের পরিবার থানায় আইনি ব্যবস্থা নিলে তা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ অস্বীকার ও মামলা প্রত্যাহার না করায় একই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে কৌশল করে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0