ইসরায়েলের মসনদে কে—নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট? জমে উঠেছে রাজনৈতিক সমীকরণ

০৬ নভেম্বর ২০২৬ - ২০:২২
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইসরায়েলের মসনদে কে—নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট? জমে উঠেছে রাজনৈতিক সমীকরণ
ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। আরবপ্রধান রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। এর আগে আরেকটি আরব দল রা’আমও তাকে সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে এই আরব সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে আইজেনকট শেষ পর্যন্ত কীভাবে তার রাজনৈতিক কৌশল সাজাবেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

​ইসরায়েলের ১২০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্ট বা নেসেটে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টি এবং সমমনা দলগুলোর জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা’আম দল ৮টি আসন লাভ করেছে।

​বিশ্লেষকদের মতে, দুটি আরব জোটের পূর্ণ সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিপরীতে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) কোনো প্রার্থীর নামই সুপারিশ না করায় নেতানিয়াহুর পক্ষে সরাসরি সুপারিশকারী আইনপ্রণেতার সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।

​আগামী রোববারের মধ্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য একজন মনোনীত প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেবেন। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিক ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেলেই যে সরকার গঠন চূড়ান্ত হয়ে যাবে, এমন কোনো নিশ্চিত নিয়ম নেই।

​সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রধানত তিনটি সম্ভাব্য সমীকরণ সামনে এসেছে:

​১. আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার: আইজেনকট চাইলে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। এর মধ্যে রা’আম সরাসরি জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবলেও ইসরায়েলের আরব জনগোষ্ঠীর পূর্ণ আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দাবি করেছে। অতীতে আইজেনকট আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের তীব্র বিরোধিতা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। গত ৩১ অক্টোবর তিনি সম্ভাব্য সরকারের জন্য চারটি কঠোর শর্ত ঘোষণা করেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েলকে একটি ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা এবং গাজায় হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা। এই শর্তগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান মেলানো বেশ কঠিন হতে পারে।

​২. ইউটিজের সমর্থন আদায়: আইজেনকট চাইলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র দল ইউটিজেকে নিজেদের দিকে টানার কৌশল নিতে পারেন। হেরেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক বাধ্যতামূলক সেবা থেকে ছাড় বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ব্যর্থ হওয়ায় এই দলটি তার ওপর বেশ অসন্তুষ্ট। সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সামরিক সেবার বিষয়ে বিশেষ সমঝোতার বিনিময়ে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করেছিল ইউটিজে। দলটির ৭ জন আইনপ্রণেতা আস্থা ভোটে বিরত থাকলে এবং অন্যরাও নিরপেক্ষ থাকলে আইজেনকট ৪৮ ভোট পেয়ে নেতানিয়াহুর ৪৬ ভোটকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। তবে নিয়মিতভাবে আইন ও বাজেট পাস করার জন্য তাদের এই সমর্থন স্থায়ী রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাছাড়া, সামরিক সেবায় ছাড়ের দাবি এবং সবার জন্য আইজেনকটের জাতীয় সেবার শর্ত এ সমঝোতার প্রধান অন্তরায়।

​৩. জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীত্ব ভাগাভাগি করার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। তবে আইজেনকট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কোনোভাবেই কাজ করবেন না। তাছাড়া, বিরোধীরাও নির্বাচনী প্রচারণায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বেনি গান্তজ ও গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এর আগে ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও গান্তজের মধ্যকার ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি শেষ পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছিল।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0