ইসরায়েলে সরকার গঠনে চরম জটিলতা: বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

২৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১১:০১
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইসরায়েলে সরকার গঠনে চরম জটিলতা: বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ছবি সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে দুই পক্ষের আসনসংখ্যার ব্যবধান এতটাই কম যে, এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের পরই দেশটির রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

​সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বুথফেরত জরিপে উভয় জোটের শক্ত অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান এলেভেন’ ও ‘চ্যানেল থার্টিন’-এর জরিপ অনুযায়ী, দুই প্রধান জোটের প্রত্যেকেই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে ‘চ্যানেল টুয়েলভ’ তাদের জরিপ সংশোধন করে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫০টি আসন।

​আল জাজিরার প্রতিবেদনে চ্যানেল টুয়েলভকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৯টি আসন লাভ করতে পারে। তবে এসব জরিপে বিশেষ নজর কেড়েছে আরব দলগুলোর জোট বা ‘আরব লিস্ট’। তাদের ১৭ থেকে ১৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা তাদের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

​১২০ আসনের নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু জরিপের ফল অনুযায়ী কোনো পক্ষই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারছে না। কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি ইতোমধ্যে স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে ভোট গণনা শুরু করেছে। ভোর চারটা পর্যন্ত আনুমানিক ২৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

​ইসরায়েলি রাজনীতিতে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নবগঠিত দল ‘ইয়াশার’ বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান শক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে একাধিক দল মিলে এই ‘চেঞ্জ ব্লক’ বা পরিবর্তনের জোট গঠন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ায় এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় নতুন সরকার গঠনে সামনে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দরকষাকষির মুখোমুখি হতে হবে নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতাদের।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0