মহাকাশে ইউরোপের নতুন ইতিহাস: জার্মানির ‘স্পেকট্রাম’ রকেটের সফল কক্ষপথ যাত্রা
ইউরোপের মহাকাশ প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইসার অ্যারোস্পেসের নির্মিত ‘স্পেকট্রাম’ রকেট। এর মাধ্যমে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে নিজেদের তৈরি উৎক্ষেপণযানের সাহায্যে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন মাইলফলক অর্জন করল এটি।
নরওয়ের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে ‘অনওয়ার্ড অ্যান্ড আপওয়ার্ড’ নামের এই মিশনটির আওতায় রকেটটি আকাশে উড্ডয়ন করে। প্রথম দফায় ২০২৫ সালের অভিযানে উড্ডয়নের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় রকেটটি সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় চেষ্টায় ছয়টি বাণিজ্যিক ও শিক্ষামূলক গবেষণার সরঞ্জাম (পেলোড) নিয়ে রকেটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
স্পেকট্রাম রকেটের কারিগরি বৈশিষ্ট্য
২৮ মিটার দীর্ঘ এবং ২ মিটার ব্যাসের এই রকেটে মোট ১০টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর প্রথম ধাপে নয়টি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি ইঞ্জিন কাজ করে। রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (এলইও) সর্বোচ্চ ১ হাজার কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম। এবারের মিশনে বিভিন্ন কিউবস্যাট এবং মহাকাশে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার নানা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহায়তা ও মন্তব্য
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) মহাপরিচালক জোসেফ আশবাখার এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। মহাকাশ খাতে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরিতে এটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইএসএ-র ‘বুস্ট’ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৭ সালের মধ্যে কক্ষপথে পৌঁছানোর লক্ষ্য দেওয়া হলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তা অর্জন করেছে।
নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ
ইসার অ্যারোস্পেসের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি স্পেনের পিএলডি স্পেসের সঙ্গে ইএসএ ১৫৮.৯ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি করেছে তাদের ‘এমআইইউআরএ ৫’ রকেটের উৎক্ষেপণ বাড়াতে। বিদেশি উৎক্ষেপণযানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগগুলোর প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











