নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ পৌনে ৫ হাজার

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৮:১৪
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ পৌনে ৫ হাজার
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের উত্তরাঞ্চলে বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এখনও ৪ হাজার ৮৮৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পুলিশ বিভাগের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​আট জেলায় মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণ

নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আটটি জেলা থেকে এ পর্যন্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে সর্বাধিক ৩৬০ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এছাড়া পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ২ ৩০, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২২২, নুয়াকোটে ১৯২, রাসুয়ায় ১৬০, গোরখায় ৭৩, ধাদিংয়ে ৬৭ এবং তানাহুন জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

​উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩০টি লাশ দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ২২২ জন নারী, ৩৫৫ জন পুরুষ এবং ৪৫৩ জনের লিঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

​ডিএনএ পরীক্ষা ও নিখোঁজদের স্বজনদের সহায়তায় উদ্যোগ

নিহতদের পরিচয় সঠিকভাবে নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৭২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ১ হাজার ২৬০টি উদ্ধার হওয়া মরদেহের দেহাবশেষ থেকে এবং ১ হাজার ১২টি স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

​এছাড়া উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ১ হাজার ২৭০টি মরদেহের বিস্তারিত বিবরণ ও তথ্য নেপাল পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে স্বজনরা দ্রুত নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন।

​বিস্তৃত উদ্ধার অভিযান ও অস্থায়ী আশ্রয়

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে তল্লাশি, মরদেহ উদ্ধার, জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের মোট ৭ হাজার ৯১২ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন জেলায় খোলা আশ্রয়কেন্দ্র বা হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৪০ জন মানুষকে রাখা হয়েছে।

​ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় অধিবাসী ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া সড়কগুলোর বাধা অপসারণে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0