নেপালে ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে আর মিলেনি জীবিত কেউ, সমাপ্তির পথে উদ্ধার কাজ
নেপালের আপার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আর কোনো ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুড়ঙ্গের সব কটি অংশে তল্লাশি চালিয়ে দুইজনকে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে নতুন করে আর কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উপস্থিতি মেলেনি।
উদ্ধার দলের তল্লাশি ও ভেতরের অবস্থা
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) কলাপ্সড স্ট্রাকচার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএসআর) ইউনিটের সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও সরাসরি অংশ নেয়।
অভিযান শেষে এপিএফ সদস্য অম্বর মহাত জানান, পানির প্রচণ্ড চাপে সুড়ঙ্গের ভেতরের বেশ কিছু কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে পড়েছে। পুরো সুড়ঙ্গজুড়ে থকথকে কাদা, মাটি ও পলির পুরু স্তর জমে থাকায় উদ্ধারকারীদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে এগোতে হয়েছে। তবে প্রতিটি অংশে সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালিয়েও পূর্বে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি ও একজনের মরদেহ ছাড়া নতুন কারো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান ভবনের কাছ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হওয়া কর্মী সঞ্জয় সাহ জানান, বিপর্যয়ের মুহূর্তে অন্য সদস্যরা দ্রুত বের হতে পারলেও তিনি আটকা পড়েন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান বন্ধের প্রস্তাব
এপিএফ-এর মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কি এবং নেপালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অনুসন্ধানের বাকি থাকা শেষ স্তর পর্যন্ত তল্লাশি সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রধান আভাস ওঝা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার কাজ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে শেষবারের মতো একটি সমীক্ষা চালাবে।
বন্যা ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ ভোতেকোশি নদীর জলে ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষ ও কাদামাটিতে এই অঞ্চলের একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্যমতে, দুর্যোগের সময় আপার ত্রিশূলি-৩এ প্রকল্পে ৪২ জন, আপার ত্রিশূলি-১ প্রকল্পে ৫৫৭ জন, আপার ত্রিশূলি-৩বি প্রকল্পে ১৯১ জন এবং রাসুওয়াগাধি প্রকল্পে ৯৩ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











