নেপালে বন্যার ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:১২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নেপালে বন্যার ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করি বন্যার দীর্ঘ ৯ দিন পর এক অলৌকিক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। সুড়ঙ্গটির ভেতরে এখনো বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকারী দল নিরলস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​উদ্ধার পাওয়া শ্রমিক ও শারীরিক অবস্থা

উদ্ধারকৃত প্রথম ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তিনি হলেন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ। পরবর্তীতে একই প্রকল্প থেকে কবির মহারঞ্জন নামের অপর এক শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। এনইএ-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানান, দীর্ঘ সময় সুড়ঙ্গে আটকে থাকায় উভয় শ্রমিকই তীব্র অক্সিজেন সংকটে ভুগছিলেন। এছাড়া ভেতরের অন্ধকার ও প্রতিকূল পরিবেশে হামাগুড়ি দিয়ে চলার কারণে তাদের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধার পরপরই তাদের হেলিকপ্টারযোগে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​সঞ্জয় শাহের সহকর্মী সুরেশ চৌধুরী এ ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, সহকর্মীকে জীবিত ফিরে পাওয়া তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বাকিদেরও জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে তারা এখন আশাবাদী।

​আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা

নেপালের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে বর্তমানে শত শত শ্রমিকসহ ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বর্তমানে প্রকৌশলীরা পাইপের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে কৃত্রিম উপায়ে বাতাস পাম্প করছেন, যাতে ভেতরে আটকে থাকারা শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারেন।

​বিবিসি নেপালিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনইএ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানান, ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প থেকে অন্তত ৪২ জনকে উদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। তাদের ধারণা অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনো অন্তত ৩৯ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন জীবিত রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

​অন্ধকারে ক্ষীণ কণ্ঠস্বর

উদ্ধার অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে উদ্ধারকারীরা বলেন, সুড়ঙ্গের অন্ধকারের মধ্য থেকেই প্রথম যোগাযোগের মুহূর্তটি তৈরি হয়। উদ্ধারকর্মীরা ভেতরের শব্দ পেয়ে চিৎকার করে আশ্বাস দেন, "আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের বাঁচাতে এসেছি।" তার পরপরই সুড়ঙ্গের গভীর থেকে ভেসে আসে এক ক্ষীণ কণ্ঠের উত্তর, "ঠিক আছে।" এই সাড়াতেই প্রাণ বাঁচানোর নতুন উদ্দীপনা পান উদ্ধারকারীরা।

​উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0