গোপনীয়তা ভঙ্গের শঙ্কা: ফ্লোরিডার মহাসড়কে নজরদারি ক্যামেরা নিষিদ্ধ

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:০৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
গোপনীয়তা ভঙ্গের শঙ্কা: ফ্লোরিডার মহাসড়কে নজরদারি ক্যামেরা নিষিদ্ধ
ছবি: সংগৃহীত

নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও গণ-নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় রাজ্য নিয়ন্ত্রিত মহাসড়কগুলোতে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট স্ক্যানার (এএলপিআর) ক্যামেরা বসানো নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য প্রশাসন। স্থানীয় পুলিশের উদ্দেশ্যে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় ফ্লোরিডার সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, মহাসড়কগুলোতে পূর্বে দেওয়া এই সংক্রান্ত সব অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে এবং নতুন করে আর কোনো পারমিট ইস্যু করা হবে না।

​আটলান্টাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফ্লক সেফটিসহ (Flock Safety) বিভিন্ন সংস্থার এআই চালিত এই ক্যামেরাগুলো ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ফ্লোরিডার পরিবহন বিভাগ তাদের মেমোতে উল্লেখ করে, সড়কগুলোতে এসব ক্যামেরার অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি, তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে।

​গভর্নরদের অবস্থান ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

এর আগে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেন, স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডারের ব্যবহার বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একইভাবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও রাজ্য সংস্থাগুলোকে ফ্লক ক্যামেরার পেছনে অর্থায়ন স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন।

​অন্যদিকে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্লক সেফটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এই স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি সহায়তা করে। প্রযুক্তিটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে বরং সুনির্দিষ্ট আইন ও নজরদারির মাধ্যমে এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে ফ্লক সেফটির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ক্যামেরা চালু রয়েছে, যা প্রতিটি গাড়ির প্লেট স্ক্যান করে উপাত্ত সংরক্ষণ করে।

​জনমত ও রাজনৈতিক প্রভাব

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, এআই চালিত এই ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা দ্বিধাবিভক্ত। জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৩৮ শতাংশ নাগরিক এই ক্যামেরা বসানোর পক্ষে থাকলেও ৪৭ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতা করছেন। রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৫৪ শতাংশ এটি সমর্থন করছেন, আর অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৫৪ শতাংশই এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0