ইরান যুদ্ধে অস্ত্রসংকটের খবর খারিজ ট্রাম্পের, গণমাধ্যমকে কড়া সমালোচনা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ টানা সপ্তম মাসে গড়ালেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার তথ্য আবারও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অস্ত্রসংকটের খবরগুলোকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন গতিতে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ তৈরি করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও ট্রুথ সোশ্যাল বার্তা
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর কাছে প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। এ সময় যুদ্ধে অস্ত্রসংকট নিয়ে খবর প্রকাশ করায় সংবাদমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব মাধ্যম ইরান যুদ্ধ নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের বদলে ভুল খবর পরিবেশন করছে।
সামরিক তথ্য ফাঁসের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
এর আগে গত আগস্টেও ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অস্ত্রসংকট নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সে সময়ও প্রেসিডেন্ট ওই খবরকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রশাসন থেকে এসব সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য
ট্রাম্প মার্কিন গোলাবারুদের পর্যাপ্ততার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম এবং সামরিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে। পাশাপাশি টমাহক, জেএএসএসএম (JASSM) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো আক্রমণাত্মক অস্ত্রের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
প্রেস ফ্রিডম ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থাগুলো। ২০২৫ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নজরদারি, সম্প্রচার লাইসেন্স পর্যালোচনার আবেদন এবং গোপন সংবাদের উৎস খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের আইনি তলব করার ঘটনা বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সুত্র : আল-জাজিরা
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











