বিতর্ক ও টানাপোড়েনের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:১৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিতর্ক ও টানাপোড়েনের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা
ছবি সংগৃহীত

রাজধানী লুসাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ

আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের মেয়াদে শপথ গ্রহণ করেছেন হাকাইন্দে হিচিলেমা। বিতর্কিত সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর গত মঙ্গলবার রাজধানী লুসাকার ‘ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে’ হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। একই আয়োজনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পাঠ করেন মুতালে নালুমাঙ্গো। জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, বতসোয়ানা, নামিবিয়া ও তানজানিয়ার শীর্ষ নেতারা এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

​নির্বাচন ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরকারি ফলাফলে হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্দুবিলে পান ৩৮ শতাংশ ভোট। তবে ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে তীব্র আপত্তি জানান মুন্দুবিলে। নির্ধারিত সময়ে সব আদালত বন্ধ থাকায় আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে বিরোধীদের দাবি।

​ভোট গ্রহণের দিন সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে রয়টার্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। গণনাকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ফল নথিবদ্ধ না করা এবং ডিজিটাল তথ্যের সঙ্গে সনাতন কাগজের দলিলের মিল যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা জানান তারা।

​এদিকে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্য নিহত হন এবং নিরাপত্তা বাহিনী লুসাকায় মুন্দুবিলের ঘনিষ্ঠ একটি সম্পত্তিতে অভিযান চালায়। সশস্ত্র বিদ্রোহের চক্রান্তের অভিযোগে বিরোধী কয়েক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়, যা তারা অস্বীকার করেছেন। আত্মগোপনে থাকা মুন্দুবিলে ও তার সহযোগী মেকেবি জুলুকে পুলিশ আটক করে পরবর্তীতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেয়।

​শান্তি ও অর্থনীতির বার্তা

শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিপক্ষের গ্রেফতার প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে চলার বার্তা দেন হিচিলেমা। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা কখনোই উচিত নয়। ভিন্নমত থাকলেও পরস্পরকে সম্মান প্রদর্শন করে দেশের স্বার্থে বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।

​২০২১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তামানির্ভর দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা সামাল দিতে ব্যাপক উদ্যোগ নেন সাবেক এই ব্যবসায়ী। ফলে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে। প্রথম মেয়াদে তৈরি অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশের তামাশিল্প ও সার্বিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হিচিলেমা। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী জাম্বিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৫ শতাংশ এবং মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি আসে তামা থেকে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0