স্পেনে তীব্র দাবদাহে নতুন করে ফিরে এল ঐতিহ্যবাহী হাতপাখা ‘আবানিকো’
পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র দাবদাহে স্পেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে দেশটির নাগরিকদের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে উঠেছে শত বছরের পুরোনো এক ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ—স্পেনীয় ফোল্ডিং হাতপাখা, যা স্থানীয়ভাবে ‘আবানিকো’ নামে পরিচিত। গণপরিবহন, ব্যস্ত সাবওয়ে ট্রেন কিংবা খোলা চত্বর—সবখানেই এখন পোর্টেবল এই পাখার ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
তরুণ থেকে প্রবীণ—সবার হাতেই আবানিকো
প্রচণ্ড গরম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে স্পেনের তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই এখন এই পাখার ওপর নির্ভর করছেন। কনসার্ট, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ও দৈনন্দিন চলাচলে নারী ও পুরুষ উভয়কেই কবজির মোচড়ে হাতপাখা ঘুরিয়ে বাতাস করতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি গত জুলাইয়ে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত 'প্রাইড' উৎসবেও রংধনু রঙের আবানিকোর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সোল স্কয়ারের কাছে ২০ বছর বয়সী আনা ফেলিউ জানান, গ্রীষ্মের সময় তাপমাত্রা যখন ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তখন কাগজের আবানিকো সাথে রাখাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে, গোলাপী ও বেগুনি রঙের পাখা ব্যবহারকারী ৫৩ বছর বয়সী ডেভিড গঞ্জালেস বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে এটিকে নারীদের অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হতো বলে শুরুতে একটু অস্বস্তি লাগছিল, তবে এই তীব্র গরমে এটি দারুণ কাজ করে এবং কিছুটা স্বস্তি জোগায়।
আবানিকোর শত বছরের ইতিহাস
ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১৫ ও ১৬ শতকে পর্তুগিজ সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে এশিয়া থেকে ফোল্ডিং পাখা ইউরোপে প্রবেশ করে। ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী দিয়েগো ভেলাজকুয়েসের ‘দ্য লেডি উইথ এ ফ্যান’ চিত্রকর্মটিতে সূক্ষ্ম কাঠের তৈরি আবানিকোর চিত্রায়ন দেখা যায়।
পরবর্তীতে ১৮ শতকে ভ্যালেন্সিয়া স্পেনীয় পাখা তৈরির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯ শতকে ফ্লামেঙ্কো নৃত্যশিল্পীরা নাচের অনুষঙ্গ হিসেবে আবানিকো ব্যবহার শুরু করলে এটি স্পেনের অন্যতম জাতীয় প্রতীকে রূপ নেয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











