মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ: নেপথ্যে হেগসেথের সঙ্গে দ্বন্দ্ব
হেগসেথের সঙ্গে দূরত্বের জের
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে পদে ইস্তফা দিয়েছেন দেশটির সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
জেনারেল বরখাস্ত ও নীতিগত অমিল
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেনাবাহিনী সংস্কার ও যুদ্ধপ্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে হেগসেথের হস্তক্ষেপ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড্রিসকল। এই অমিলই শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। ড্রিসকলের বিদায়ের পর সাময়িকভাবে সেনাসচিবের দায়িত্ব সামলাবেন বর্তমান আন্ডার সেক্রেটারি মাইক ওবাডাল।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'মেক আমেরিকা স্ট্রং অ্যাগেইন' এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সাবেক সেনাসচিব ড্রিসকল অসামান্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।
সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন
চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জসহ প্রতিরক্ষা খাতের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন হেগসেথ। বরখাস্ত হওয়া জেনারেল জর্জের সঙ্গে ড্রিসকলের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল এবং তিনি প্রকাশ্যে তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। ড্রিসকলের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠতা ও সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি হেগসেথ নিজের কর্তৃত্ব ডিঙানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখতেন।
প্রযুক্তি উন্নয়ন বনাম রাজনৈতিক গুরুত্ব
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ মূলত সংস্কৃতিবিষয়ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে বেশি মনোযোগী হলেও, ড্রিসকল ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং সেনাবহরের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে জোর দেন।
তবে হেগসেথ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল আনেন। তিনি সেনাপ্রধান র্যান্ডি জর্জ, ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিঙ্গাস, ট্রান্সফর্মেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান ডেভিড হোডনে এবং মার্কিন আর্মি ইউরোপ ও আফ্রিকার কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্তোফার ডোনাহুসহ একাধিক সামরিক কর্তাকে বরখাস্ত বা পদত্যাগে বাধ্য করেন। এসব ধারাবাহিক রদবদল ও মতপার্থক্যই ড্রিসকলকে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











