ইতালির ঐতিহাসিক নরো শহরে মাত্র ১৪৩ টাকায় মিলছে বাড়ি

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৬:৫৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইতালির ঐতিহাসিক নরো শহরে মাত্র ১৪৩ টাকায় মিলছে বাড়ি
ছবি সংগৃহীত

ইউরোপের দেশ ইতালির সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর নরো। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীন ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত এই শহরে মাত্র ১ ইউরো—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৩ টাকার বিনিময়ে বাড়ি কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মূলত ক্রমাগত জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়া এই প্রাচীন লোকালয়টিকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পর্যটন খাতকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে।

​সিসিলির আগ্রিজেন্তো প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নরো শহরটি তার বারোক স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনগুলো সংস্কারের মাধ্যমে নতুন করে বসতি গড়ে তোলাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য। ইতালীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ‘কাসে ১ ইউরো নরো’ (Case a 1 Euro Naro) অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই বাড়িগুলোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

​বাস্তব খরচ ও আইনি শর্তাবলি

প্রতীকী মূল্য ১ ইউরো বা ১৪৩ টাকা হলেও বাস্তবে ক্রেতাকে বেশ কিছু অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হবে। তালিকাভুক্ত প্রায় প্রতিটি ভবনই সংস্কারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে, ফলে বাড়ি কেনার পর সেটিকে পূর্ণাঙ্গ বসবাসের যোগ্য করে তুলতে যাবতীয় সংস্কার ব্যয় ক্রেতাকেই বহন করতে হবে।

​এর পাশাপাশি দলিল সম্পাদন, নিবন্ধন ফি, ক্যাডাস্ট্রাল ট্যাক্সসহ সম্পত্তি-সংক্রান্ত সকল আইনি ও দাপ্তরিক কর ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও স্থাপত্য নকশা প্রস্তুত করা, নিরাপত্তার নিয়ম মানা এবং নগর পরিকল্পনার বিধি অনুসরণের যাবতীয় খরচ ক্রেতার ওপরই বর্তাবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভবনটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

​নরো শহরের ঐতিহাসিক আকর্ষণ ও ঐতিহ্য

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে নরো একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ শহর। এখানে রয়েছে বিখ্যাত চিয়ারামন্তানো দুর্গ, ১৩ শতকে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী 'গোল্ডেন গেট' বা পোর্তা দ'ওরো এবং একটি উন্মুক্ত শিল্প প্রদর্শনী কেন্দ্র। ২০০৫ সালে এক ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কয়েকটি ভবনের সামনের অংশ স্থানীয় তরুণ শিল্পীরা চিত্রকর্ম দিয়ে সাজিয়ে তোলেন, যা পরবর্তীতে ‘এমএএন’ (MAN) ওপেন-এয়ার মিউজিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

​স্থাপত্যকলার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্যও নরো শহরের খ্যাতি রয়েছে। বিশেষ করে ক্যাসাটা, পাস্তা রেয়ালে, আরানচিনা ও কানোলির মতো ঐতিহ্যবাহী সিসিলীয় সুস্বাদু খাবার ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের বস্তু।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0