হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা: জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আক্রমণ

৩১ আগস্ট ২০২৬ - ১০:২৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা: জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আক্রমণ
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা/ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর লারক দ্বীপে অবস্থিত ইরানি রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সামরিক পদক্ষেপের পর সংঘাত নতুন রূপ নিয়েছে। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। প্রায় এক মাসের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঘটনা।

​যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বহনে সক্ষম রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লারক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন এই হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এ ঘটনার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

​জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি

আইআরজিসি জানিয়েছে, লারক দ্বীপে আক্রমণের বদলা হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন পরিচালিত 'কিং হোসেন' ও 'আল-আজরাক' বিমানঘাঁটির কারিগরি অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ঘাঁটি দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। এছাড়া, ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'MQ-9' ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

​তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সূত্র দাবি করেছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর দিকে আসা প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করা হয়েছে এবং এতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

​খার্গ দ্বীপ ও দীর্ঘায়িত সংঘাত

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি হাব 'খার্গ দ্বীপ' ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হচ্ছে। তবে এ দাবির সপক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি এবং হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকেও এ নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা হয়নি। উল্লেখ্য, যুদ্ধের পূর্বে ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো।

​গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিশ্বজুড়ে মোট ব্যবহৃত তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0