নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে পৌঁছেছে। দুর্যোগের চতুর্থ দিনেও নদী অববাহিকা ও উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ২,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় অধিবাসী, পর্যটক ও বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন। গত বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রসুয়া জেলার ভোটে কোশি নদীতে হঠাৎ বিশাল মাত্রায় প্লাবন দেখা দিলে এই বিপর্যয় ঘটে।
উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজের চিত্র
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অঞ্চলের উভয় পাশে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২,৪৭৮ জনে। এর মধ্যে নেপাল অংশে ১,৯২৪ জন এবং তিব্বত অংশে ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
ভারত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, এখনও অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তিব্বত অংশে আটকে থাকা বেশ কিছু ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন এবং অনেকের উদ্ধারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যান্য দেশ: যুক্ত রাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, লাটভিয়া, জার্মানি ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নিখোঁজের তালিকায় আছেন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্মী: ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে কর্মরত বহু শ্রমিক ও প্রকৌশলী এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
দুর্গতদের চিকিৎসায় ও ত্রাণ তৎপরতায় এগিয়ে এসেছে ভারত। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১০ টন মানবিক সহায়তা ত্রাণ, ১১ সদস্যের অভিজ্ঞ ডাক্তার ও প্যারামেডিক দল এবং বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী টিম কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠায় নয়াদিল্লি।
পাহাড়ি রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্ঘটনাকবলিত প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্বাসনে পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত স্থাপনযোগ্য বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
সুত্র : এনডিটিভি
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











