ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: ট্রাম্প

২৯ আগস্ট ২০২৬ - ০৬:৫৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরানো ছবি: সংগৃহীত

ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার প্রমানিত খনিজ তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা আনুমানিক ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতের পুনরুজ্জীবন এবং মার্কিন বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির মূল্য কমানোর লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার) পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতাটি চূড়ান্ত করেছেন। মার্কিন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত কোনো আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

​সমঝোতার প্রভাব ও মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা

সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ এক বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, এই চুক্তি উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে, যা মার্কিন বাজারে পেট্রোলের দাম কমিয়ে আনবে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ও পশ্চিমা বেসরকারি বিনিয়োগের পথ সুগম হবে। এটি দেশটিতে বহু নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি সংকটাপন্ন অর্থনীতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​আইনি জটিলতা ও অবকাঠামোগত সংশয়

তবে চুক্তিটির আইনি ভিত্তি ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল নিষ্কাশন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

​জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস’-এর প্রধান ডেভিড গোল্ডউইন মনে করেন, ভেনেজুয়েলার বিদ্যমান সংবিধান ও হাইড্রোকার্বন আইন অনুযায়ী মার্কিন সরকারের মাধ্যমে এই ধরনের ইজারা কাঠামোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেলক্ষেত্রে বিদেশি সরকারের প্রত্যক্ষ ইজারা নিয়ন্ত্রণের কোনো ঐতিহাসিক পূর্বনজির নেই। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সীমিত রপ্তানি সক্ষমতার মতো সমস্যাগুলো দূর করা না গেলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ টানা চ্যালেঞ্জিং হবে।

​প্রেক্ষাপট ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন দেশটির তেলের বাজার পুনর্গঠন এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রবেশের ক্ষেত্র তৈরিতে কাজ করছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের রজার্ভ থাকা সত্ত্বেও বহু বছরের অব্যবস্থাপনা, কম বিনিয়োগ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দরুন ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে দৈনিক উৎপাদিত তেলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

​আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানি তেল ও পেট্রোলের চড়া দাম নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল রিজার্ভ (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) পুনর্গঠনেও ভেনেজুয়েলার এই নতুন চুক্তি সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুত্র : রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0