নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে বড় বন্যার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান স্থগিত
নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। গত দুদিনে জমতে থাকা পানি বাঁধ উপচে নিচে নামতে শুরু করায় সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষ।
নেপাল পুলিশ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, তিব্বতের অংশে ভূমিধস ও বরফ ধসে নদী আটকে তৈরি হওয়া বাঁধটিতে ফের ফাটল ধরা ও পানি উপচে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে দুর্গম এলাকার উদ্ধারকারী দলগুলোকে অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনের কর্তৃপক্ষও একই উদ্বেগের কথা নিশ্চিত করেছে। দেশটির উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের গিরং বাণিজ্যকেন্দ্রের কাছে গঠিত প্রাকৃতিক হ্রদটিতে পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সেখানে মোট কী পরিমাণ পানি জমে রয়েছে তা অনিশ্চিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব উদ্ধারকর্মীকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত দুর্গত সীমান্ত এলাকা থেকে ৪৯৯ জন স্থানীয় চীনা নাগরিক এবং ৫৫৫ জন বিদেশি পর্যটককে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবারে ঘটা আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে দুদেশের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। শত শত মানুষের মৃত্যু ছাড়াও বিধ্বস্ত হয় বাড়িঘর ও নানা অবকাঠামো। সরকারি হিসেবে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও নতুন করে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার তিব্বতের এই দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজ নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, পাহাড়ি এলাকায় জমে থাকা হিমবাহ, নবগঠিত কৃত্রিম হ্রদ এবং ভূ-প্রাকৃতিক অস্থিরতার কারণে এখনো নানা অদৃশ্য ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াকে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সারসংক্ষেপ:
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি কৃত্রিম বাঁধ উপচে পড়ার ঝুঁকিতে উদ্ধার কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এলাকাটি থেকে সহস্রাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











