নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে কৃত্রিম হ্রদ: বন্যা মোকাবিলায় চীনের জরুরি পদক্ষেপ
নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর সৃষ্টি হওয়া বিপজ্জনক কৃত্রিম হ্রদের (ব্যারিয়ার লেক) পানি অপসারণ ও ঝুঁকি কমাতে জরুরি উদ্ধার ও প্রকৌশল কার্যক্রম শুরু করেছে চীন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ওই বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানির পর নদী অববাহিকায় আবারও নতুন করে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রকৌশল দলের সমীক্ষা ও নিষ্কাশন পরিকল্পনা
চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত জাইরং (Gyirong) সীমান্ত বন্দর সংলগ্ন এলাকায় আকাশপথে জরিপ চালানো এবং ৩ডি মডেলিং তৈরির জন্য আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-কে প্রকৌশলী চেন হানসিয়াও জানান, হিমবাহ ধসের ফলে হ্রদের চারপাশে অনেক খাড়া পাহাড় তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
হ্রদের পানিপ্রবাহের ঝুঁকি সামলাতে বাঁধের তুলনামূলক নিচু অংশে ড্রেনেজ চ্যানেল খোদাই করে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পানি জমার গতি ও প্রবাহের তীব্রতা হিসাব করেই এই চ্যানেলের সঠিক গভীরতা ও প্রশস্ততা নির্ধারণ করা হবে।
পানির গভীরতা ও চরম ঝুঁকি
জরিপ অনুযায়ী, হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদটি প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪০ থেকে ৫০ মিটার গভীর। বর্তমানে এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়ে আছে। এছাড়া জাইরং সীমান্ত এলাকায় অব্যাহত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের কারণে আশপাশের মাটি ও শিলা শিথিল হয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আশঙ্কাজনক করে তুলছে।
চীন সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে হ্রদটিতে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে, যা প্রায় ১,২০০টি অলিম্পিক সুইমিং পুলের পানির সমান। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে বাঁধ ভেঙে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











