নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৫শ'
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ কাদা-ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেবল নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৯ জন এবং চীন সীমান্তে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন বোর্ড।
উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে, প্লাবনের তোড়ে তিব্বত-নেপাল রসুওয়াগধি সীমান্ত সীমান্তচৌকি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাহাড়ি উপত্যকা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিব্বত-নেপাল সীমান্তে নতুন একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাঁধ ভেঙে ভাটি অঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চীন সরকারের 'লেভেল-ফোর' জরুরি সতর্কতা
তিব্বতের ছ ছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে পাহাড়ি ধসের ফলে গঠিত বাঁধ-হ্রদ নিয়ে বেইজিং 'লেভেল-ফোর' জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। এসব নদী নেপালের ভোটে কোশি নদী ব্যবস্থার প্রধান উৎস।
চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, গঠিত হ্রদে ইতোমধ্যেই প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জমা পানির পরিমাণ ৩০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে। এটি ভেঙে পড়লে তিব্বত-নেপাল সীমান্তের গিয়ারং পোর্টসহ নিম্নাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হিমালয় পর্বতমালায় বরফ ধসের পর সৃষ্ট বহুতল ভবনের উচ্চতার কাদা ও পানির স্রোত জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছ। নিখোঁজদের বড় অংশই বিদেশী পর্যটক এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বতে গমনকারী হিন্দু তীর্থযাত্রী। বিপর্যয়গ্রস্ত অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের আকস্মিক হিমবাহ ধস ও বন্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদরা।
বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেপালের
এদিকে দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালাতে একাধিক দেশের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব আপাতত ফিরিয়ে দিয়েছে নেপাল সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, নেপালের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীই অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম।
সরাসরি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল না নিয়ে নেপাল সরকার একমুখী (ওয়ান-ডোর) ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। পরবর্তী ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক আর্থিক সাহায্য চাওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সুত্র: এনডিটিভি
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











