অতিরিক্ত চর্বি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জানুন শরীরে এর প্রয়োজনীয় ভূমিকা

০৬ অক্টোবর ২০২৬ - ২৩:১৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
অতিরিক্ত চর্বি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জানুন শরীরে এর প্রয়োজনীয় ভূমিকা
ছবি: সংগৃহীত

মেদ বা চর্বি কমাতে কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও কায়িক পরিশ্রমের আশ্রয় নেন অনেকে। তবে অতিরিক্ত চর্বি যেমন শারীরিক নানাবিধ ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনই প্রয়োজনের তুলনায় চর্বির মাত্রা অতিমাত্রায় কমে যাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখতে চর্বির একটি স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মাত্রা ধরে রাখা আবশ্যক। চর্বি একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা শরীরে গুরুতর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চর্বি কেবল মাত্র বাড়তি শক্তি জমা রাখার কোষ নয়, এটি দেহের একটি অত্যন্ত সক্রিয় অংশ হিসেবেও কাজ করে। চর্বি কোষ থেকে বিভিন্ন ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি এবং সঞ্চিত শক্তির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখে। এর মধ্যে ‘লেপটিন’ নামক হরমোনটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।

​দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও চর্বির প্রকারভেদ

দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চর্বির অবদান অনস্বীকার্য। মানবদেহে প্রধানত দুই ধরনের চর্বি থাকে— সাদা চর্বি এবং বাদামি বা বেইজ চর্বি। সাদা চর্বি অতিরিক্ত শক্তি জমিয়ে রাখার পাশাপাশি ভেতরের তাপ ধরে রাখতে সহায়তা করে। পক্ষান্তরে, বাদামি ও বেইজ চর্বির বিশেষ উপাদানগুলো অভ্যন্তরীণ শক্তি পুড়িয়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় তাপ তৈরি করে।

​চর্বির মাত্রা অত্যাধিক কমে যাওয়ার ঝুঁকি

কঠোর ডায়েট বা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত কম ক্যালরি গ্রহণের ফলে চর্বি খুব কমে গেলে শরীর বিপাকক্রিয়া ধীর করে জরুরি শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা শুরু করে। এর ফলে দেহের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, পেশির ক্ষয় শুরু হয় এবং হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও ক্ষয়রোধ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলশ্রুতিতে শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি হাড় ভেঙে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়।

​এ ছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে চর্বির স্বাভাবিক মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি ও শারীরিক সক্ষমতা কমে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে মাসিক অনিয়মিত হওয়া কিংবা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মতো হরমোনজনিত জটিলতা। দীর্ঘকাল ধরে চরম চর্বিশূন্যতা বজায় থাকলে শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি সাধিত হতে পারে, যা এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

​শরীরে চর্বির আদর্শ মাত্রা

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবে ১০ থেকে ২০ শতাংশ এবং নারীর শরীরে ২০ থেকে ২৯ শতাংশ চর্বি থাকা দরকার। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বাঁধা নিয়ম নয়; বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক কাঠামোর পার্থক্যে প্রয়োজনীয়তার তারতম্য ঘটে।

​বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরকে সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত করার মানসিকতা বাদ দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0