রাস্তার দোকান থেকে রেস্তোরাঁ: খাদ্য ব্যবসায় লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

২১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৫২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রাস্তার দোকান থেকে রেস্তোরাঁ: খাদ্য ব্যবসায় লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব ধরনের খাদ্য ব্যবসা এবং বেকারি ও রেস্তোরাঁসহ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য ফরম জমা দেওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত খাতে অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন বা বিক্রি করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

​সম্প্রতি বিএফএসএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি জানানো হয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেট আকারে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই নীতিমালার অধীনে খাদ্যপণ্য তৈরি, আমদানি, স্থাপনার অনুমোদন ও নির্ধারিত পণ্য নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

​গেজেটে বর্ণিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, মোট ১৬টি ক্যাটাগরির খাবার ও প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, জুসের দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ও মোড়কজাত খাদ্য প্রস্তুতকারকদের পাশাপাশি ফুটপাতের পিঠা, পুরি কিংবা পেঁয়াজুর দোকানকেও এই জবাবদিহির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও চাল-ডাল ও মুদির পাইকারি বাজার, কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য গুদাম এবং ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর জন্যও এ নিয়ম কার্যকর হবে।

​পাশাপাশি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ ও বিপণনের ক্ষেত্রে আলাদা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশু খাদ্য (ফর্মুলা মিল্ক), বয়স্ক বা বিশেষ রোগীদের পথ্য, নিউট্রাসিউটিক্যালস, প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক খাবার, পুষ্টিবর্ধিত বা জৈব (অর্গানিক) খাবার এবং জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের এ শর্ত প্রযোজ্য হবে। যে কোনো পণ্যে স্বাস্থ্যগত উপকারিতার প্রচার বা বিজ্ঞাপন দিলে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ও ফি জমাদানের মাধ্যমে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে। অনুমোদিত নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ে নবায়ন করতে হবে। ১৬টি ক্যাটাগরির ব্যবসায়ীদের জন্য প্রথমবার নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়তন অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা (১০০ বর্গমিটার বা নিচে) থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা (১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি) পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

​নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়িত হলে পণ্য বিক্রির মোড়কে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ রাখতে হবে। ফলে ক্রেতারা সহজেই পণ্যের সঠিকতা যাচাই করতে পারবেন এবং যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন। শুরুর দিকে জেলা ভিত্তিক কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে, তবে পরবর্তীতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইনের ২০১৩ ধারার অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে খাদ্য প্রস্তুত বা ব্যবসা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও খাদ্য সুরক্ষায় ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0