বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে ধস, ১৭ মাসের সর্বোচ্চে মার্কিন ডলার

০২ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:১০
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে ধস, ১৭ মাসের সর্বোচ্চে মার্কিন ডলার
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে বিক্রির তীব্র চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে শক্তিশালী হচ্ছে মার্কিন ডলার। টানা তিন সপ্তাহ ধরে দরবৃদ্ধির ধারায় থেকে বৈশ্বিক এই মুদ্রাটি বর্তমানে ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

​রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকারি বন্ডের দরপতনের ফলে বিশ্বজুড়ে ঋণের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের চড়া দামে নতুন করে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবারের ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও বিশ্ববাজারে সরকারি বন্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার (ইয়েল্ড) বেড়ে ৫.৩৪৪ শতাংশে ওঠে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও শুক্রবার দিনের শুরুতে এই হার কিছুটা কমে ৫.২৪৯ শতাংশে নামে। এই মুহূর্তে নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত মূল প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

​বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্দেশক ‘ডলার ইনডেক্স’ ১০২.০৮-এ অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহে সূচকটি প্রায় ১ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে টানা তিন সপ্তাহ ডলারের এমন উত্থান দেখা গিয়েছিল।

​বাজারের এই গতিপ্রকৃতি নিয়ে সাক্সোর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে মূল্যস্ফীতি কমার গতি শ্লথ, সরকারের ঋণের পরিমাণ বিপুল এবং বাজারে নতুন বন্ডের জোগান বাড়ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বল্পমেয়াদে সুদের হার বাড়ার ঝুঁকি কমলেও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার বাড়ছে। এর অর্থ দাঁড়িয়েছে—বিষয়টি কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতি সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সরকারের আর্থিক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ঝুঁকি এখানে মূল বিষয় হয়ে উঠছে।

​এদিকে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জুলাইয়ের হিসাব সংশোধন করে কমানোর কারণে সুদের হার বাড়ার বিষয়ে বাজি কিছুটা কমেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ দুই নীতিপ্রণেতা নতুন সিদ্ধান্তের আগে আরও তথ্যের ওপর জোর দেওয়ায় শুক্রবারের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। পূর্বাভাস অনু্যায়ী, সেপ্টেম্বরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কিছুটা মন্থর হতে পারে এবং বেকারত্বের হার টানা তিন মাসের মতো ৪.১ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

​পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্যের ওপর কড়া নজর রাখছে। তাই মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, বন্ড এবং ডলারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

​অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা স্থবির থাকায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ চুক্তির দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার স্পর্শ করেছে। ফলে ইউরো নেমেছে ১.১২৩৭ ডলারে, যা ২০২৫ সালের মে মাসের পর অন্যতম সর্বনিম্ন। বিশেষ করে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ও ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদের হার ১৪ বছরের উচ্চে পৌঁছানোয় ইউরোতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ইউরো দুর্বল হয়েছে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর বিপরীতেও।

​জাপানি ইয়েনের বিপরীতে এক ডলারের দর দাঁড়ায় ১৫৮ ইয়েনে। ব্রিটিশ পাউন্ড ১.৩১৮৭ ডলার, অস্ট্রেলীয় ডলার ০.৬৮১৯ ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের ডলার ০.৫৫৯১ ডলারে অবস্থান করছে। টিডি সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ প্রশান্ত নিউনাহার মতে, ইউরোপের সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষিত সম্পদ হিসেবে ডলার ও ইয়েনের প্রতি ঝুঁকছেন। পেপারস্টোনের ক্রিস ওয়েস্টনের ভাষায়, ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণ এখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ শক্তির চেয়ে অন্যান্য অঞ্চলের বিশেষ করে ইউরোপের সংকটময় পরিস্থিতির ওপর বেশি নির্ভরশীল।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0