মাঝআকাশে ককপিটে হামলা: যাত্রী ও ক্রুদের সাহসিকতায় যেভাবে রক্ষা পেল ১৭৪ আরোহীর বিমান

০১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৫৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মাঝআকাশে ককপিটে হামলা: যাত্রী ও ক্রুদের সাহসিকতায় যেভাবে রক্ষা পেল ১৭৪ আরোহীর বিমান
ছবি সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ককপিটে প্রধান পাইলটের ওপর সহ-পাইলটের আচমকা হামলার পর সাধারণ যাত্রী ও ক্রুদের অসম সাহসিকতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বিমানটির ১৭৪ জন আরোহী। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।

​ককপিটে হামলা ও যাত্রীদের প্রতিরোধ

সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফ্লাইটটি চলাকালীন ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হঠাৎই মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন এবং তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাইলট মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার বোতাম চাপতে সক্ষম হন। দরজার লক খুলতেই বিমানে থাকা কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন।

​ককপিটে ছুটে যাওয়া সাহসী যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ইয়ানিভ হায়ুন নামে এক পানির লাইনের মিস্ত্রি এবং শোটা মুসায়েভ নামের এক দন্তচিকিৎসক। মুসায়েভ জানান, ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান পাইলট রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং সহকারী পাইলট তাকে একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপটাই দিয়ে হামলাকারীকে বেঁধে ফেলেন।

​উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ উদ্ধার

হামলা চলাকালে উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল। এমন সংকটময় মুহূর্তে যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের হ্যান্ডেল টেনে সাময়িকভাবে বিমানটির পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা একজন ছুটিপ্রাপ্ত ব্রিটিশ পাইলট এবং দুজন 'রিলিফ পাইলট' ককপিটে প্রবেশ করে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বিমানের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন।

​তীব্র বেগে নিচে নেমে আসার কারণে বিমানটির পেছনের অংশের রাডারের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণে সক্ষম হয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত উচ্চতা থাকা এবং সময়মতো যাত্রীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

​চিকিৎসা ও আইনি ব্যবস্থা

ঘটনার পর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে সৌদি আরবের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। অন্যদিকে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে গ্রেফতার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সহকারী পাইলট উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ১৭৪ জন যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0