আকাশসীমার জটিলতা নিরসন: শুক্রবার দেশে আসছে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি

০১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:১৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আকাশসীমার জটিলতা নিরসন: শুক্রবার দেশে আসছে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি
ছবি সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক জটিলতার অবসান ঘটেছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি মেলায় রাশিয়া থেকে আগামীকাল শুক্রবার প্রথম চালানের পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছাবে। একটি বিশেষ কার্গো বিমানে করে এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী ও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সড়কপথে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় তা পরিবহন করা হবে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো বিমানের মাধ্যমে প্রকল্পটির জ্বালানি ঢাকায় আনা হবে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গো নির্দিষ্ট করা রয়েছে। শুক্রবার প্রথম চালান আসার পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দল।

​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কার্গো বিমান যে পথ অতিক্রম করবে, সেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকে। পূর্বে নির্ধারিত ফ্লাইটের রুটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইসলামাবাদের অনুমতি পেতে বিলম্ব হওয়ায় তৎকালীন ফ্লাইটটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করতে হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে রাজনৈতিক কোনো পদক্ষেপ নয় উল্লেখ করে জানায়, নিছকই প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত আনুষ্ঠানিকতার কারণে বিলম্ব ঘটেছিল। এখন প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ায় নতুন সূচি অনুযায়ী কার্গো বিমান ঢাকায় আসছে।

​চুক্তি অনুসারে, কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরুর প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ইউরেনিয়াম লোড করা হলেও নির্দিষ্ট মেয়াদের (প্রায় দেড় বছর) পর তা পরিবর্তন করতে হবে। তাই আগেভাগেই রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত তিন বছর শেষ হলে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম নিজস্ব অর্থায়নে আমদানি করতে হবে।

​রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রসাটম’ ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় জাতীয় গ্রিডে সংযোগ দেওয়া পিছিয়েছে। রাশিয়া থেকে আগত বিশেষজ্ঞ দল ও যন্ত্রাংশের সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট সচল করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজও স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0