মার্কিন-ইরান সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি
সামরিক সংঘাত ও বিশ্ববাজারে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উর্ধগতি দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাসে পা রাখা এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম আড়াই শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
সোমবার লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২.৩৯ ডলার বা ২.৭১ শতাংশ বেড়ে ৯০.৪৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২.৩৬ ডলার বা ২.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫.৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯১.৫২ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।
লারক দ্বীপ ও জর্ডানে পাল্টাপাল্টি হামলা
সংশ্লিষ্ট খবরের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী স্ট্রেট অব হরমুজের লারক দ্বীপে থাকা ইরানের দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ঘাঁটিতে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে এবং এর যথোপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।"
খার্গ দ্বীপ ইস্যু ও হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং ইরান সরকার তথ্যটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে তাদের তেল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানায়। পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, এই বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মূলত ইরানকে একটি সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন।
এদিকে, বিশ্ব তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হওয়া স্ট্রেট অব হরমুজ পুনরায় উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রণালীটি দিয়ে দৈনিক যাতায়াতকারী দৃশ্যমান বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখছে।
ভেনেজুয়েলার তেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুদ
যুক্তযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর)-এ তেলের মজুদ গত সপ্তাহে ৩.১ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। এই সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় তেল এনে দেশের কৌশলগত মজুদ পূর্ণ করার কথা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে শেভরন, জিই ভার্নোভা, ওএনজিসি, এনি এবং জিওপার্কের মতো বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন প্রকল্প চালুর চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











