সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, দেশে কোনো আদিবাসী নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

১১ আগস্ট ২০২৬ - ২৩:২৮
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, দেশে কোনো আদিবাসী নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

oবাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল নাগরিকের মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই; এখানে বসবাসকারী সবাই মূলত বাংলাদেশের অধিবাসী। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচটিআরএফ) উদ্যোগে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইনডিজেনাস আইডেনটিটি ইজ ই-রিলিভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

​বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিকের সমান অধিকার বজায় থাকবে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের রাজনৈতিক দল ও অংশীজনরা যৌথভাবে নাগরিকদের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নির্ধারণে একমত হয়েছেন। এই ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি জোর দেন।

​অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষা

​ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিকাশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী, উপজাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, নারী, শিশু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় সমতায় আনতে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা এবং কোটাব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যার স্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে। প্রতিবেশী বেশ কিছু বহুজাতিক দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে পৃথক 'আদিবাসী' পরিচয়ের বদলে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে সকলকে মূলধারায় যুক্ত করার নীতি মানা হয়।

​আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদ প্রসঙ্গ

​জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিকলারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজেনাস পিপলস’ (ইউএনডিআরআইপি) বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এটি গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশ ভোটদান থেকে বিরত ছিল। তাই ইউএনডিআরআইপি কিংবা আইএলও কনভেনশন-১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এগুলোর অংশীদার নয়।

​উক্ত গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0