সৌদিতে ফ্লাইট বিধিনিষেধ: শাহজালালে ৫১ ফ্লাইট বাতিল, চরম ভোগান্তিতে ৫ হাজার প্রবাস ও ওমরাহ যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হঠাৎ উড্ডয়ন ও অবতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করায় রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশটিতে যাওয়ার ও ট্রানজিটের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে অন্তত ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সিডিউল বিপর্যয়ের শিকার এসব যাত্রীদের মধ্যে ছুটি শেষে প্রবাসে ফিরতে যাওয়া কর্মজীবী যেমন রয়েছেন, তেমনই আছেন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া পুণ্যার্থীরাও।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ফ্লাইট বাতিলের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত শনিবার থেকে শুরু করে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্স পর্যায়ক্রমে এই ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেবিচক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সরাসরি রুট ও ট্রানজিট মিলিয়ে একাধিক এয়ারলাইন্সের পরিচালনায় এ বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যে সরাসরি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২ টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৩টি এবং রিয়াদ এয়ারলাইন্সের ৩টিসহ মোট ১২টি ফ্লাইট বাতিল হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি—মোট ৩৯টি ফ্লাইট বাতিলের আওতায় পড়েছে।
ফ্লাইট বন্ধ থাকায় দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবাসীরা বিমানবন্দরে পৌঁছে বিপাকে পড়ছেন। কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবের বেসরকারি কর্মস্থলে যোগ দিতে তিনি বিমানবন্দরে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারেন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ভিসার মেয়াদ মাত্র ৫ দিন বাকি থাকায় সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে তিনি মারাত্মক উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
একই ধরণের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওমরাহগামী যাত্রীরাও। পাবনার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ জনের একটি দল ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইন্ডিগোর টিকিট কেটে মুম্বাই হয়ে জেদ্দা যাওয়ার জন্য দুপুরে বিমানবন্দরে হাজির হন। কিন্তু টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করে তারা জানতে পারেন বিকালের নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের মতো অসংখ্য প্রবাসী ও ওমরাহযাত্রী এখন নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে গত শনিবার রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৮ জন আহত হন। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের আকাশপথ ও বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











