ধর্ম নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

১২ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৫০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ধর্ম নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে দেশের প্রতিটি মানুষের সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য ও কৌশল বিনিময় সভায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ시켜 দেন যে, দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী ধাপে সব ধর্মের মানুষের অসামান্য অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন—কোনোটিতেই ধর্মের কোনো বিভাজন ছিল না। দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সমবেতভাবে লড়াই করেছে, একইভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ধর্মের ভিত্তিতে পার্থক্য করার কোনো অবকাশ নেই।

​বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় ছিল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। যেভাবে মুসলিম কর্মীরা নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন, একইভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরাও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তাই সরকারপ্রধান হিসেবে কাউকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, দেশের একজন সচেতন ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

​অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গোৎসবে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, গণরায় বাস্তবায়নের পর থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত নিরাপদে ও শান্তিতে জীবনযাপন করছেন। দেশ গঠনে সরকারের এই উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিতে পূর্ণ সমর্থন জানান তারা।

​উক্ত সৌজন্য সভায় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও আশপাশের অঞ্চলের পূজো কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় অন্যান্য বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0