প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে: রুহুল কবির রিজভী
প্রশাসনসহ সমাজের নানা স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো ঘাপটি মেরে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে এদের চিহ্নিত করে কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ।
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৯০ সালের পরাজিত স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী এবং ২০২৪ সালের পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি একই সূত্রে গঠিত। গত ১৭ বছর ধরে তারা দেশে অবাধ লুটপাট চালিয়েছে, ব্যাংক খালি করে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে এবং গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এখনো প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের সহযোগীরা ঘাপটি মেরে বসে আছে।
সাবেক কর্মকর্তাদের অপকর্ম তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা ক্রসফায়ার দিয়েছে, সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে এবং জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। যুগের পর যুগ ধরে আমরা সব ধর্মের মানুষ একে অপরের উৎসবে অংশ নিয়েছি। তবে পরাজিত চক্রান্তকারীরা পূজাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ ষোড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি, যাতে হিন্দু সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাচার, মিথ্যা মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রবাসে থেকে দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব আন্দোলনের যে সাহসিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ চব্বিশের এই অভ্যুত্থান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম। স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ’৯০-এর ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবিবুর রহমান হাবিব, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











