প্রশ্ন ফাঁসে স্থগিত যুব উন্নয়নের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ অক্টোবর
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আকস্মিক স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পাঠাবে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় ১১তম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যেখানে ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হলেও আগের রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ও অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার দিন সকালে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করলে শুরুর শেষ মুহূর্তে এসে অধিদপ্তর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান জানান, ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট পোস্ট নজরকাড়ায় দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা স্থগিতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর একাধিক স্থানে আন্দোলনে নামেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা। রাজধানীর মিরপুর, শাহবাগ, নীলক্ষেত, মতিঝিল ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। এসময় বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের প্রবেশপত্র পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়, যার ফলে নগরীর বেশ কিছু এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে চাকরিপ্রার্থীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী প্রার্থীরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অর্থ ব্যয় করে ঢাকায় এসে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তারা চরম মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, অন্তত চার সেট প্রশ্ন তৈরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন এবং পরীক্ষা স্থগিত হলে সর্বনিম্ন ১০ দিন পূর্বে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি মানা না হলে মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











