সৌদি-হুতি সংলাপ ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত ইরান, বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতির তাগিদ
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক পথ পরিহার করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ইতিবাচক সংলাপ আয়োজনে তেহরান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় এই বার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, রিয়াদের বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।
আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে রবিবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মীমাংসাকে উপেক্ষা করে কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলবে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান কোনো সংকটেরই সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাজনৈতিক পথ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌদি-হুতি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে ইরান সর্বাত্মক সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত নীতি পুনর্মূল্যায়নের আভাস দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। যদিও ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সরাসরি হামলা না করার ব্যাপারে তিনি অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন, যা নতুন বক্তব্যে কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইরান ও তার মিত্র দলগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থান এবং সৌদি তেল অবকাঠামো টার্গেট করায় রিয়াদ ও তেহরানের সম্পর্কের নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাসেও সৌদির পক্ষ থেকে তেহরানকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায় এখন এই অঞ্চলের পরবর্তী কূটনৈতিক মোড়ের দিকে নজর রাখছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











