বিশ্ববাজারে ১৮ মাসের শীর্ষে ডলার, তেলের বাজারেও অস্থিরতার আভাস

১২ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:৫৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্ববাজারে ১৮ মাসের শীর্ষে ডলার, তেলের বাজারেও অস্থিরতার আভাস
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিস্তার এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের দর গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাল। বিশ্ব মুদ্রাবাজারে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

​আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সম্প্রতি সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করার পর তেলের দর ওঠানামা করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে বর্তমানে ১০৪ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন-রাশিয়া ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’সংক্রান্ত ঘোষণার প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও, চলমান যুদ্ধ শুরুর পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় তা এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ উঁচুতে অবস্থান করছে।

​বিশ্বের প্রধান ছয়টি প্রভাবশালী মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের পারফরম্যান্স মাপার সূচকটি সামান্য কমে ১০২.১৬ পয়েন্টে দাঁড়ালেও, এটি গত সপ্তাহে অর্জিত ১৮ মাসের রেকর্ড শীর্ষ অবস্থানের খুব কাছেই বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ামক সংস্থার হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ওপর বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক বাজির মোট পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও ছিল ৮৪০ কোটি ডলার। এই বিষয়ে এমইউএফজি (MUFG)-এর কারেন্সি স্ট্র্যাটেজিস্ট লি হার্ডম্যান উল্লেখ করেন, আমেরিকার বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলার অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

​আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর এখন আগামী বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে। এই প্রতিবেদনটি চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও সুদের হারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত মাসে ২০২৩ সালের পর প্রথমবার সুদের হার বাড়িয়েছিল ফেড।

​এই প্রসঙ্গে বিনিয়োগ সংস্থা পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন জানান, চলতি অক্টোবর মাসে ফেডের পুনরায় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এলে ফেড আগামী বছরের জানুয়ারিতে সুদের হার আবার বাড়াবে কি না—সে প্রশ্ন জোরালো হবে।

​এদিকে, ইউরো আপাতত স্থিতিশীল থেকে ১.১২ ডলারে লেনদেন হলেও ফ্রান্সের ঘরোয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাজেট ঘাটতির কারণে টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো দরপতনের মুখে পড়েছে। ওসিবিসি (OCBC) ব্যাংকের ফরেক্স বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ঋণের ব্যয় ফরাসি সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কতটা রাজকোষীয় শৃঙ্খলা চাপিয়ে দিতে পারবে, তা নিশ্চিত করা কঠিন। অন্যদিকে জাপানে সরকারি ছুটির কারণে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৮.৪১ ইয়েনে স্থির রয়েছে। তবে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৩২৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ১.১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৯৫.৭ রুপিতে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0