বুলগেরিয়া উপকূলে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি: নিখোঁজ ১১ নাবিক, রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতকে তলব

১৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:২৮
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বুলগেরিয়া উপকূলে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি: নিখোঁজ ১১ নাবিক, রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতকে তলব
ছবি সংগৃহীত

কৃষ্ণ সাগরে বুলগেরিয়া উপকূলের কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। এতে অন্তত ১১ জন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় পাঁচজন নাবিককে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ওই একই এলাকায় এটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবির দ্বিতীয় ঘটনা। এ ঘটনার পর বুলগেরিয়া তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাশিয়াকে তলব করেছে।

​বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতের অন্ধকারে পৃথক দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একটি সাগরে তলিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী না করলেও এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, এই হামলার ফলাফল শেষ পর্যন্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের অনুকূলেই যায়। দেশের আঞ্চলিক জলসীমার খুব কাছেই এমন হামলাকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন তিনি। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ডুবতে থাকা জাহাজটির নাম 'আজভ কনকর্ড'। তুরস্কভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের এই জাহাজটি ক্রাপেটস গ্রামের উপকূলে হামলার শিকার হয়। উদ্ধার পাওয়া ৫ জন ছাড়া বাকি ১১ জন নাবিকের সন্ধান মেলেনি। একই রাতে মাল্টার পতাকাবাহী 'চেলসি ৩' নামে অপর একটি জাহাজও তিনটি ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। তবে সেটিতে থাকা ৭ জন ইউক্রেনীয় ও ৮ জন আজারবাইজানি নাবিক নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

​এদিকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন, কৃষ্ণ সাগরকে রাশিয়া তাদের যুদ্ধের নতুন রণাঙ্গনে পরিণত করেছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তাকে জিম্মি করতে এবং খাদ্যাভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেই রাশিয়া বেসামরিক নৌপথে ধারাবাহিক এসব হামলা চালাচ্ছে।

​উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগেও ওই অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে ৯ জন সিরীয় ও ১ জন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে নৌচলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শস্য রপ্তানির জন্য ইউক্রেন এখন বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া উপকূলীয় নৌপথের ওপর নির্ভর করছে, যেখানে নিয়মিত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0