হুথি হামলা জোরালো হওয়ায় ইরান ও সৌদিকে ভিন্ন বার্তা দিল পাকিস্তান
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানকে প্রশ্ন করা হয়, ইসলামাবাদ কীভাবে মক্কা চুক্তির আওতায় নিজের দায়িত্ব পালন করবে। জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, বিষয়টি এই মুহূর্তে আলোচনায় নেই। তবে উপযুক্ত সময়ে এই চুক্তির অধীনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইসলামাবাদ তার ইয়েমেনি মিত্রদের নিয়ন্ত্রণ করতে ইরানকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে। যদিও এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান গণমাধ্যমকে জানায়, তাদের তরফ থেকে কোনো সামরিক জবাবের পরিকল্পনা নেই। এরপরও তেহরানকে নতুন করে বার্তা দিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের মিত্রদের আচরণের কারণেই ইসলামাবাদকে এ ধরনের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিপরীতে ইরানের অবস্থানও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভরা বলে মনে হচ্ছে। ৪ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আশা প্রকাশ করেন যে, পাকিস্তানে সেনা মোতায়েনের যে খবর এসেছে তা যেন সত্য না হয়। তবে চুক্তিটি কার্যকর বা সক্রিয় করার পর থেকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সুর আরও কঠোর রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে ইরানি তাসনিম বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত খবরে শিরোনাম করা হয় যে, তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে।
পাকিস্তান সামরিক পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে তেহরানের সন্তুষ্টির বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট। তাছাড়া পাকিস্তানের সেনা মোতায়েন বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান কোথায় রাখা হয়েছে—এটি কি সৌদি ভূখণ্ডের ভেতরে, ইয়েমেন সীমান্ত বরাবর, নাকি সৌদি সেনাবহরকে তথ্য ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ—তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট সেনা সংখ্যা বা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের কোনো তালিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে হুথি তরফ থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া এসেছে। গোষ্ঠীটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রিয়াদের সমর্থনে সামরিক পদক্ষেপ বা সেনা মোতায়েন করলে পাকিস্তান ও তুরস্ককে কঠোর প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে। তবে চুক্তি সক্রিয় হওয়ার পর হুথিদের করা মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, পাকিস্তান বা তুরস্কের কেউ সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।
ইসলামাবাদের এই ভারসাম্যের কৌশল অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত বছরের বসন্ত থেকেই তারা দ্বিমুখী কৌশল বজায় রাখছে। গত ৩ মার্চ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পররাষ্ট্র বিষয়কে উপস্থাপনকালে দেশটির তৎকালীন প্রতিনিধি (দার) উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা-দায়বদ্ধতার বিষয়টি তিনি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন। সে সময় ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানান যে, সৌদি আরবের কোনো ভূখণ্ড যেন ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











