মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার ষড়যন্ত্র করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রুহুল কবির রিজভী

১১ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:৪০
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছোট করার ষড়যন্ত্র করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রুহুল কবির রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্বাধীনতাবিরোধীরা ছোট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করে 'জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল' ও 'মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম'।

​সমাবেশে জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বীরত্বের কোনো ইতিহাস নেই, আছে কেবল দালালির ইতিহাস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "বাংলাদেশি" হিসেবে আমাদের জাতীয় পরিচয় ১৯৭১ সালের অর্জিত সাফল্য। আমরা সেই সূর্যসন্তানদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন।

​বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর অতীত ও রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, দলটি সবসময় ক্ষমতা ও সুবিধার জন্য আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৬ সালে দলটি আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনেও বিএনপিকে অংশগ্রহণে বাধ্য করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

​জামায়াত আমিরের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সেই প্রদর্শনীতে সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার ছবি বা স্থান উপেক্ষিত হলেও ৭ মার্চের ভাষণের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাসকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের সাম্প্রতিক একটি প্রতীকী কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একাত্তরের ইতিহাস ও অর্জনকে হালকা করার এসব চেষ্টা মূলত একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। তবে ছাত্র-জনতা তা সফল হতে দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা ধারণ করেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে।

​এর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরুর পূর্বে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে একটি মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতাকর্মীরা ডিআরইউ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ করেন।

​অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জাহেদুল হক শামীম এবং সহ-সভাপতি ড. কে এম আই মন্টিসহ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0