হাসিনা কার্ড খেলা বন্ধ করে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

০৮ আগস্ট ২০২৬ - ১৮:২৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হাসিনা কার্ড খেলা বন্ধ করে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখছেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভারতের প্রতি ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) যৌথভাবে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ প্রদান করা এবং ঢাকার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বিষয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক শ্রদ্ধা, সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। ভারত বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অপকৌশল থেকে বিরত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই এ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক সাফল্য নয়। তিনি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে উসকানিমূলক পরিবেশ এড়িয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর অসমাপ্ত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার গুরুত্বারোপ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি ছাত্র-জনতার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার ফল বলে আখ্যা দেন।

​রাষ্ট্রকাঠামোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যেন স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে, সেজন্য সংবিধানে রক্ষাকবচ রাখা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা বা কোনো ধরনের উসকানিমূলক ফাঁদে না পড়ে ধৈর্যশীল ও প্রজ্ঞাবান আচরণের মাধ্যমে স্বাধিকার বজায় রাখা প্রয়োজন।

​অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0