আলমডাঙ্গায় অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে কিশোর রাফিজ হত্যার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার
প্রতিনিধি আলমডাঙ্গা ঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার ঘটনার মূল আসামী লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
গ্রেপ্তারকৃত লাল্টু মিয়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট সহ গ্রেপ্তার-১
- আলমডাঙ্গায় কৃষি উপকরণ প্রণোদনা বিতরণ ও ফল মেলার উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ
- আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ মা/দ/ক/সেবীর বিভিন্ন মেয়াদে কা/রা/দ/ণ্ড ও অর্থদণ্ড
- আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও বিভিন্ন মামলার ১১ আসামী গ্রেপ্তার, গাঁজা উদ্ধার
- চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের ভাই পরিচয়ে আলমডাঙ্গায় প্রতারণা,দুই প্র/তা/রক গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় । এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। ওইদিন রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে রাফিজের কান্নার শব্দ শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় । এ কথা কাউকে জানালে জবাই করে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।এঘটনায় গত ১০ জুন আলমডাঙ্গা থানায় রাফিজ অপহরণ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
অপহরণের ৮ দিন পর গত ১৩ জুন কুতুবপুরের মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খাল থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
এদিকে মামলার মূল আসামীদের ধরতে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের দিক নির্দেশনায় পুলিশের সাইবার টিসসহ একাধিক টিম কাজ শুরু করে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, রাফিজের বাবা প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশ্মি দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পরও তারা মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবী করে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া রেলস্টেশনের পাশের জামালপুর থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশ্মি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0