ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করল ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বৃদ্ধির শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো নতুন একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে ইরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরানে গিয়ে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত মূল বিরোধের স্থায়ী সুরাহা ছাড়া কোনো ধরনের সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি নয় তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর বরাতে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী জাইদি তেহরানে গিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে ট্রাম্পের বার্তাটি পৌঁছে দেন। গোপন সূত্রে ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রস্তাবটির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে এটিই একমাত্র কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হিসেবে আলোচনায় থাকলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া এতে সম্মতি জানায়নি ইরান।
কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ইরানের বক্তব্য
ইরান সফরকালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার তথ্য ইরানের কাছে শেয়ার করাটা ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “মূল সংকট যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে নয়, বরং সংকট তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক, আধিপত্যবাদী এবং অতিরিক্ত চাপের নীতির কারণে। আর ইরান দৃঢ়তার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সেই নীতিরই মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”
তীব্র পাল্টা হামলা ও ভবিষ্যৎ হুঁশিয়ারি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার উত্তাপ ও সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি তেহরান বা অন্যান্য স্পর্শকাতর অবকাঠামো পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তেল আবিবে হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপও নিতে পারে তেহরান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











