সুদানে তীব্র দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে জরুরি মানবিক পদক্ষেপের জোরালো আহ্বান
যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে খাদ্যসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের একাধিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সুদানের চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে সৃষ্ট সব ধরনের বাধা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। বর্তমান খাদ্য পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহায়তা কর্মসূচি ঢেলে সাজাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সুদানে খাদ্যের ঘাটতি উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে। সমন্বিত খাদ্যনিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাস বা আইপিসির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। সংঘাতরত পক্ষগুলোকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের জাতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। বেসামরিক শাসনে উত্তরণের অংশ হিসেবে দুটি বাহিনীকে একত্রিত করা নিয়ে তৈরি মতবিরোধ থেকে এই যুদ্ধের সূচনা হয়।
জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে সুদানের প্রায় ৫১ লাখ মানুষ চরম খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। গৃহযুদ্ধের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না, যার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে অনাবৃষ্টি ও খরা।
যৌথ বিবৃতিতে সংঘাতরত পক্ষগুলোকে দেশের ভেতরের সংঘাতপীড়িত অঞ্চল এবং সীমান্তজুড়ে সব পথে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে আকাশপথে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুদানের সব জায়গায় মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। এ যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় কমিশন স্বাক্ষর করেছে।
সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সেই সঙ্গে একাধিক জাতিগত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর আরএসএফ যোদ্ধারা একটি শহর অবরোধের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অনাহারে রাখার মতো অপরাধ সংঘটিত করে বলে জাতিসংঘের তদন্তে উঠে আসে, যাকে গণহত্যার শামিল বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সুদানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। তবে উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











