সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন

২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৩৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। নতুন এই দায়িত্বে তিনি বিশেষ করে সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের উপায় নিয়ে কাজ করবেন।

​আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন আরডার্ন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ, সামাজিক সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস নেওয়া, অতিথি বক্তৃতা দেওয়া এবং তরুণদের পরামর্শ দেওয়ার কাজ করবেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো পূর্ণকালীন বা স্থায়ী দায়িত্ব নয়।

​নতুন এই পথচলা নিয়ে জেসিন্ডা আরডার্ন জানান, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা জটিল সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সঠিক নেতৃত্বকে উৎসাহিত ও সমর্থন জোগাতেই তিনি কাজ করে যেতে চান।

​বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মার্ক স্কট তার এই যুক্ত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করার সময় বিভিন্ন জাতীয় সংকটে জেসিন্ডা আরডার্ন প্রমাণ করেছেন যে, সহমর্মিতা ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব একে অপরের বিপরীত নয়, বরং এগুলো একটি অন্যটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলে।

​এর আগে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরডার্ন উল্লেখ করেছিলেন, বিশ্বজুড়ে বহু নেতা কর্তৃত্ববাদী আচরণ প্রদর্শন করলেও সাধারণ মানুষ মূলত মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্বই প্রত্যাশা করে। চলতি রাজনীতিতে অসন্তুষ্টির কারণেই বিশ্বব্যাপী ভোটাররা মূলধারার বাইরের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেসিন্ডা আরডার্ন। পদে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীও তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় লেবার পার্টির প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি। তার মেয়াদে ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকট সফলভাবে সামলে প্রশংসিত হন তিনি।

​রাজনীতি ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতৃত্ব ও প্রযুক্তি পরিচালনাবিষয়ক ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন আরডার্ন। ২০২৫ সালে তার লিখিত স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’ প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের শুরুতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও কন্যা নেভেকে সাথে নিয়ে সিডনিতে পাড়ি জমান তিনি এবং সেখানকার উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0