ইরানে টানা ১১ দিন বিমান হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণ

২২ জুলাই ২০২৬ - ০৮:২৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানে টানা ১১ দিন বিমান হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, রাজধানী তেহরানসহ দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

​বিবৃতিতে পেন্টাগনের সেন্টকম দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে ইরান যে ঝুঁকি তৈরি করছে, তা নস্যাৎ করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌঘাঁটি, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং অন্যান্য সামরিক রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

​সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থান বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর ও সিরিক শহর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ এলাকার কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনাও বিমান হামলার শিকার হয়েছে।

​দক্ষিণ অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক চলমান সামরিক অভিযানের পর তেহরান ও তাবরিজে মার্কিন এই হামলাকে নতুন মাত্রার কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

​অন্যদিকে, মঙ্গলবার কুয়েতের সামরিক বাহিনী ইরানি একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান আঞ্চলিক সামরিক মিত্র হিসেবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের ওপর একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।

​একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন কংগ্রেসে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং পেন্টাগনের কার্যক্রম সচল রাখতে আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন। এই অতিরিক্ত অর্থায়নের চাহিদাকে কেন্দ্র করে মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

​এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সন্দেহভাজন 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত জোরালো সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো আক্রমণ চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0