ইরান যুদ্ধে বিপুল খরচ: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

২২ জুলাই ২০২৬ - ০৮:২০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরান যুদ্ধে বিপুল খরচ: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, ছবি : সংগৃহী

ইরানের বিরুদ্ধে চলা সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ইতিমধ্যেই ৩৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সাম্প্রতিক শুনানিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

​পেন্টাগন প্রধান জানান, পূর্বে যে খরচের হিসাব অনুমান করা হয়েছিল, বর্তমান ব্যয় তার চেয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। নতুন এই হিসাবের মধ্যে এ পর্যন্ত পরিচালিত সেনা অভিযান এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য আনুমানিক খরচ যুক্ত করা হয়েছে। তবে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব কীভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়নি।

​শুনানিকালে হেগসেথ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত নতুন বাজেট বা অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া গেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংকুচিত হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক তৎপরতা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

​এদিকে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরান যুদ্ধ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। যুদ্ধের বিশাল ব্যয় ও এর ফলে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা। অন্যদিকে, দুপক্ষের মধ্যকার স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত পাল্টাপাল্টি সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

​পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত ও হামলায় এ পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার পর থেকে আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সদস্য আহত হয়েছেন। পেন্টাগন দাবি করেছে, জুলাইয়ের প্রথম দিক থেকে আহত হওয়া অন্তত ১০০ সেনার মধ্যে ৯৬ শতাংশই সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন।

​অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, প্রধান সেতুসমূহ, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল এবং ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র "পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন"-এ সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলের ওই পারমাণবিক স্থাপনায় খুব শিগগিরই আঘাত হানা হবে বলে গত মঙ্গলবার ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0